Friday, August 31, 2012

তোমাকে দেখি


এতদিন তোমাকেই খুঁজেছি
গেঁয় মাটির সোদা গন্ধে
পাহাড় থেকে নেমে আসা
ভিজে শিশিরের স্নিগ্ধ স্পর্শে..
অনেকটা সময় পেরিয়ে এসে
তোমাকে দেখি দূর থেকে
মিশে আছ কুয়াশায়, মেঘে
যেখানে পথ গিয়েছে বেঁকে|

ছুঁয়ে দিয়ে যাও আর একবার
ভালোবাসা, লিখি কবিতা আবার...

Thursday, August 30, 2012

পারো কী


পারো কী হারিয়ে যেতে
ওই দূর নীল সীমানায়
পারো কী ফিরিয়ে দিতে
ফেলে আসা মুহূর্তগুলোয়

আমি তো সেই একই আছি
যেমন ছিলাম, কুয়াশা মাখা ভোরে
এখনো পথ হাঁটি নিরুদ্দেশে
কখনো খালি পায়ে, প্রেমেরই ঘোরে
পারো কী মুছে দিতে
যা কিছু ছিল আয়নায়

আজও আছে সব কিছু যেমন ছিল
পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা সেই ঝরনা
হঠাৎ দমকা হাওয়ায় শিরশিরে অনুভুতি
আর আড়মোড়া ভেঙে সূর্যদয় দেখার ভাবনা
পারো কী ভুলিয়ে দিতে
জমা অস্তরাগের ভাবনায়

Tuesday, August 28, 2012

মনের ভ্রমর


একটা ভ্রমর
হঠাৎ ঘরে ঢুকে পড়ে
ঘুরপাক খেতে লাগলো|
সব জানলা খুলে দেওয়া সত্বেও
বেরোতেই চায় না...
কোন মরিচিকার আশায়
সে ঘরবন্দী হতে চায়
হয়তো সে নিজেও জানে না...
এমনই মনের ঘরে যে
ভ্রমর থাকে, ঘুরপাক খায়
বেরোতে চায়’না কিছুতেই|

আর যখন সে সত্যিই বেরিয়ে যায়
হঠাৎ কেমন যেন নিঃস্তব্ধ হয়ে যায়
ঘর, মনের ঘর...
চারপাশে খুঁজতে থাকি
সত্যিই বেরিয়েছে তো!

Saturday, August 25, 2012

বেখেয়ালী মেঘ


বেখেয়ালী মেঘ এসে
ঢেকে দিল ক্যানভাসটাকে,
প্যানোরমা মোড-এ দেখা
কাঞ্চনজঙ্ঘার অবয়ব
ঘুম ভাঙা চোখে
বিস্ময়ে মুগ্ধ মুহুর্তগুলো...

যখনই কিছু আঁকতে যাই
বেখেয়ালী মেঘের মত
ঢেকে দিয়ে যাও
সত্তায় মিশে থাকা
অহংবোধ-গুলোকে|
যখনই কিছু ভাবতে যাই
ছড়িয়ে পড়া মেঘের মত
মিলিয়ে দিয়ে যাও
না-ভাবনার আকারে শায়িত
অপরিমিতিবোধ-গুলোকে|

আবার ঘুম আসে
ক্যানভাসটাকে নিজের মত করে
সাজিয়ে নেবার ইচ্ছেতে
বাধ সাধে ওই
বেখেয়ালী মেঘ|

Friday, August 24, 2012

ঠিকই ভেবেছিলো রাত্রি


ঠিকই ভেবেছিলো রাত্রি
কবিতা দিয়ে তো আর পেট ভরানো যায় না!
হাতের আঙুলের ফাঁকে হাত রেখে
ঘন কুয়াশা পথে হাঁটতে হাঁটতে
হারিয়ে যাওয়া, কিংবা
কাঁধে মাথা রেখে নিবিড় হয়ে
সূর্যোদয় দেখা, আর পড়ন্ত বিকেলের
গোধুলি উত্তাপ বুকে নিয়ে
স্যাঁতস্যাঁতে মনখারাপের বিষন্নতা
মুছে ফেলা, একে অপরকে বোঝা;
ও তো মুহুর্তের বিলাসিতা মাত্র,
তাই দিয়ে তো আর পেট ভরানো যায় না!

ঠিকই ভেবেছিলো রাত্রি
চাঁদের আলোয় গা না ভাসিয়ে
মহুয়া ফুলের গন্ধে হারিয়ে যাবার চাইতে
রাইস-কুকারে সেদ্ধ হওয়া বাসমতি চাল
সুগন্ধ ছড়ায় অনেক বেশি,
হাড়িতে ফোটা সেদ্ধ চাল আর
কবিতা দিয়ে তো পেট ভরানো যায় না!

ঠিকই ভেবেছিলো রাত্রি
স্প্রিং-ক্লাবের স্যান্ডুইচটার অনেক ভালো টেস্ট,
লাচুং’এর ঝুপ করে নেমে আসা সন্ধ্যা
আর উষ্ণতায় ভরা চায়ের কাপের চাইতে|
ইচ্ছে করলেই তো ওসব কিনে নেওয়া যায়
তুড়ি মেরে, স্বপ্ন; এমনকি ভালোবাসাও,
কবিতা দিয়ে তো আর পেট ভরানো যায় না!

Thursday, August 23, 2012

কুয়াশায়


তোমায় ভালবাসব বলে
কুয়াশা মাখা পথে হাঁটা শুরু
তোমাকে আমি চিনি’না বলে
আঁকতে থাকি নানান অবয়ব
মেঘ হয়ে তারা খেলা করে
কখনো টুপ করে ঝরে পড়বে বলে|

তোমায় আদর করবো বলে
রোডডেনড্রন ছুঁয়ে কথা বলি
তোমায় আমি জানি’না বলে
রোদ-ছায়ায় কাটাকুটি খেলা পথে
চোখ নামিয়ে নিচে দেখি, যদি
কুয়াশা হয়ে ঝুপ করে নেমে আস|

না’চেনা না’জানার সব পরেও
শুধু তোমায় আমি বুঝি বলে
আজও কুয়াশায় মিশে যাইনি...

Tuesday, August 21, 2012

হাঁটতে থাকি...


দু’ধারে ছড়ানো অনেক পুরোনো
শ্যাওলা ধরা, তবু মাথা উঁচু করে
দাড়ানো পাইন কাছের সারির বুক চিরে
হাঁটতে থাকি...

পথের ধারে রাখা পাথুরে বেঞ্চ-ই
আমার অবসরের সঙ্গী, লাঠি
পিছনে ধাপে ধাপে নেমে মিশে যাওয়া
খাদের কিনারায় বেজে ওঠে
দ্রিমি দ্রিমি, দূর থেকে ভেসে আসা
ঘন্টাধ্বনি আর তা বলে যায়
আকাশের মত উদার হও
অথবা মাটির কাছাকাছি
ফেলে দিয়ে নাতিশীতোষ্ণ জরা বোধ
হাঁটতে থাকি...

Sunday, August 19, 2012

ঝাপসা কুয়াশায়


মেঘ এসে ঢেকে দিল পাহাড়টাকে
চোখে ভেসে গেলো যে মুহূর্তটাকে
মাটিতে রোদ এসে আছড়ে পরে
শুষে নিতে চায় ভেজা অনুভবগুলোকে
ঝাপসা কুয়াশায় শরীর মেখে নেয়
আরেকটা দিনের বারতা
কেন বারবার মেঘ নেমে আসে
কুয়াশায় ভিজে যায় চরাচর
নাকি বুঝিয়ে দিতে চায়
দিন-রাতের মত এও এক খেলা
প্রত্যাবর্তনের, নতুন করে ভাবার!

Saturday, August 18, 2012

তুমি-আমি’র


ঠিকরে পরা আলো চোখে ভালোবাসা সাজায়
বৃষ্টি শেষে চুঁইয়ে পড়া জল মনকে জাগায়
নিভৃত তুমি আমি সকলেই সেই একা
তবু হাত ধরাধরি করেই পথ চলা, দিগন্তে
চোখে চোখ রেখে বলতে চাই আজন্মকাল-
খুঁজো না গভীরতা, তলিয়ে যেতে পারো
দেখো না ব্যাকুলতা, করুনা করতে পারো
শুধু সঙ্গে থেকো মুহুর্তগুলোর অবিরত,
হাত ধুয়ে নেওয়ার পরেও যে মৃদু মশলা
গন্ধ রয়ে যায়, রেখে দিও তাকে,
আলো নেমে আসুক আরো গভীরে
বৃষ্টি ভাসিয়ে দিক সব আকুলতা
তুমি আমি দুজনেই প্রতীক মাত্র
সবার মধ্যেই সবাই খুঁজে চলে সেই
তুমি আমি'র টুপ করে ঝরে পড়া|

আর কখনো চাইনা...


অনেক দূর থেকে ভেসে আসা
জোনাকি আলো স্থির হয়ে থাকে
ঘুম ভাঙ্গে আবছায়া পরী-দের
জানলার ভেজা কাঁচে আঙুলের দাগ
অলস আড়মোড়া আর ঢুলুঢুলু চোখ
টেনে দেয়া পর্দা আর আলগোছে
ছোঁয়া শরীরে আদিমের হাতছানি
গ্লাসের লাল জলে অথবা ঝুরিভাজায়
উঁহু, তোমাকে আর কখনো চাইনা...

জানলার কাঁচ ভেঙে নেমে আসুক
কোনো রাত পরী, কিংবা শীত পোশাকের
উষ্ণতায় জন্ম নিক কোনো অচেনা মুখ
চেনারাই তো আজ অচেনা, অনেক দূর
থেকে ভেসে আসা অস্পষ্ট আলো
নিরুদ্দেশ প্রান্তরে গুমরে ওঠে কোনো
বাউল সুরে, গির্জার ঘন্টাধ্বনিতে
দু’হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে যাক আজন্ম ভালোলাগা
উঁহু, তোমাকে আর কখনো চাইনা...

Friday, August 17, 2012

আরো দুরে...


কাটাকুটি খেলা ট্রয়-ট্রেনের লাইন
রাস্তার মাঝে অগোছালো সেই বালক
আমার হারানো কৈশোর নি:শ্চুপে
হেঁটে যায় ঘুম থেকে উঠে
বৃষ্টি মেঘের আল ধরে আরো দুরে...

দু’হাত বাড়ালেই আলগোছে স্পর্শ
নেমে আসে সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে
ছুটি নেয় দেখতে না পাওয়া পাখিরা
আর চেনা মুখ, গাছ সঙ্গোপনে
বৃষ্টির ভেজা পথ ধরে আরো দুরে...