Wednesday, May 29, 2013

ফেলে আসা




সময় করে সময় পাও যদি
মুঠোয় নিয়ে এক মুঠো এক নদী
দাঁড়িও এসে কোন এক ব্রিজের ধারে
তোমায় ফেলে ট্রেন ছুটে যায় সুদূরে

বৃষ্টি মাথায় বৃষ্টি দিনে পাড়ি
বাড়ি পেরিয়ে লুকিয়ে যাও বাড়ি
দাঁড়িও ছাদে কোন মনকেমনের বিকেলে
দেখো এখনও যারা সবাই মিলে খেলে

আলাদা করে আলাদা হতে পারো
যদি কারো হাত একবার হাতে ধরো
দাঁড়িও একলা যে কোনো অকাজের ভিড়ে
হয়ত আছে মুহুর্তগুলো এখনো তোমায় ঘিরে

গোপনীয়

গোপন কথাগুলো
আজও গোপন আছে
ভালবাসার গোপন কুড়িগুলো
আজও গোপনই রয়ে গেছে
শুধু মমি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
যত মিথ্যে প্রতিশ্রুতি আর কথারা
আর কোনদিনও ঝরে পরবে না
অসময়ের ঝরে জানলা খোলা পেয়ে

যা কিছু গোপনে
এঁকেছিল বালি, মাটি, বা পাথরে
ওপরে জমা হয়ে গেছে স্তরে স্তরে
আরো নতুন কোনো গোপন কথার ভিড়
চুঁইয়ে পড়ে থাকা এক আধটা শামুক খোলে
কারো পায়ের তলায় রক্ত জমে, তবু
হেঁটে চলে যায় নিতান্ত অবহেলায়
গোপনেই রয়ে যায় যত গোপন যা কিছু!

সময় পেয়েছি




সময় পেয়েছি
তোমায় সব বলব বলে
কানের দু’পাশে জমা ঘাম
সযত্নে এড়িয়েছি স্থিত হতে
যখনই রেখেছি
তোমার চোখে সব চাওয়া
না বলা সব কথা কেমনে
যেন না বলাই রয়ে গেছে

সময় পেয়েছি
ভুল গুলোকে সিঁড়ি করে
হাঁটু রোগ ধরবার আগেই
উঠে যেতে কোন বারান্দায়
যখনই বলেছি
নিজেকে খোলা রোদ্দুরে মেখে
হেঁটে যেতে পারি আরও দূরে
ভিজিয়ে তোমার শিথিল মুঠোয়

সময় পেয়েছি
আর একবার তোমায় দেখার
একাকী অনেক দূরে আয়নায়
আর অসময়ের গোপন কথারা|

Thursday, May 16, 2013

দায়ভার


কেউ কখনো এসে বলেনি
খুলে ফেলবো তোমার দরজা
অথচ তুমি যে ফুরিয়ে গিয়েছ
এটা জানিয়ে দেবার দায়ভারও
সন্তর্পনে এড়িয়ে যেতে চায় সবাই

রাত্তির জুড়ে শুধু ঝড়ো হাওয়া
নিঃশব্দে নামিয়ে রাখি ফোন
যারা রোদ্দুরের মতো হাসতে হাসতে
আমাকে বৃষ্টিতে রেখে গেল, তারা
জানলোও না বৃষ্টি মেঘেও কি সুখ!

Wednesday, May 8, 2013

খুচরো পাপ




মরচে ধরা জানলার পাল্লা খুলতেই
কিছু খুচরো পাপ ছড়িয়ে পড়ে মেঝেতে
আর মুখের আনাচে কানাচে গুঁড়ো গুঁড়ো অনুভব
দমকা হাওয়ায় হ্যাঙ্গারে রাখা জামা
দোল খায় ঘর জুড়ে আপন খেয়ালে
আর বারান্দার কার্নিশে ডানা ঝাপটায় বুড়ো ডাক

নি:সঙ্গ দুপুর জুড়ে তোমার না আসা চিঠি
লিখে চলি অকারণ হলদে পাতা জুড়ে
আর মনের প্রান্তে ক্যানভাসে কেউ এঁকে চলে রং-তুলি
হঠাৎ একটা চড়ুই জানলা খোলা পেয়ে
ঢুকে পড়তে চায় শুকনো পাতার ঝরে পড়ায়
আর কড়ি বরগার ফাঁকে আটকে থাকা ভাঙা ঘুলঘুলি

পাঁচিলের ওপাশে আটকে পড়া রোদের ছায়া
বাঁক ফিরে আধ বন্ধ হওয়া চায়ের দোকান
আর আচমকা হাঁক দিয়ে যায় কোনো ফেরিওয়ালা
কুড়িয়ে বাড়িয়ে যেটুকু পড়ে থাকে নীল-তাকে
কিংবা চৌকাঠ ভেঙ্গে পেরিয়ে যাওয়া সদর দরজায়
আর গলির মোড়ে আসে না সেই অচেনা বাঁশিওয়ালা

কিছু খুচরো পাপ গড়িয়ে পড়ে হাতের নাগাল না পেয়েও!