Sunday, November 27, 2011

অপদার্থ


ব্যর্থ আমি জীবন পথে
ব্যর্থ অতিক্রমে
ব্যর্থ আমি ভালবাসায়
ব্যর্থ আমি প্রেমে

ব্যর্থ সু-পুত্র হতে
ব্যর্থ হতে ভাই
বন্ধু হয়ে ব্যর্থ আমি
ব্যর্থতার গান গাই

ব্যর্থ ভালো মানুষ হতে
ব্যর্থ পাওয়ার আশায়
ব্যর্থ আমি স্বপ্ন দেখতে
ব্যর্থতার-ই নেশায়

ব্যর্থ আমি সারাজীবন
ব্যর্থ সবার চোখে
গোপনে তাই অশ্রু ঝরে
ব্যর্থতার-ই শোকে...

Friday, November 25, 2011

ওরা


গাছতলা রাস্তার ধার ফিরে আসে বারবার
স্বপ্ন দেখবে বলে ওরা স্বপ্ন দেখে বারবার

চারতলা ফ্লাটে জানলার ধারে
দিনরাত মাথা নিচু করে পড়ে
          সেই নাকি ভালো ছেলে
মরলে পাড়ার কোনো বৃদ্ধ
সেই ছেলের পথ নাকি রুদ্ধ
          ওরাই আসে সব ফেলে
দগ্ধ সিগারেট পোড়ে কখনো-বা গলির মোড়ে
ভাঙ্গতে যে চায় ওরা সব কিছু গায়ের জোরে

যে মেয়েটির হয়নিকো বিয়ে
বর পালিয়েছে পণের টাকা নিয়ে
          ভালো ছেলের দল দেখে চুপিসারে
গুলতানি ছেড়ে ওরাই তখন
খুঁজে ফেরে বরের আসন
          চাঁদা তুলে পণের জোগাড়ে
শনিবারে রক্ষাকালী এভাবেই চলে জোড়াতালি
ওরা নাকি রকবাজ ওদের ভাঁড়ার একেবারে খালি

 বেপাড়ার যদি কোনো মেয়ে
চলে সেথা আশ-পাশ দিয়ে
          বেপরোয়া কলি আর শিস
আসলে ক্ষোভ কিছু না পাওয়ার
নতুন গানের নৌকা বাওয়ার
          স্নিগ্ধ প্রেম ওদের খবর নিস
অজস্র হিন্দী গান মুখে মাতাল পদক্ষেপ বুকে
দিলে আওয়াজ কেউ পাড়ার মেয়েকে ওরাই ফের রোখে

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে
কোনমতে ব্রাশটা গুঁজে মুখে
          মা চেঁচায় ওদিকে গলা চিরে
থমকে দাঁড়ায় মোড়েতে এসে
রঙিন স্বপ্নে সবুজ ইচ্ছা মেশে
          হারিয়ে ফেরা মুহূর্ত এসেছে ফিরে
বেসাতির কারবার তবু সুখী সংসার
স্বপ্নের খোঁজে ওরা ফেরে যে বারবার

গাছতলা রাস্তার ধার ফিরে আসে বারবার
স্বপ্ন দেখবে বলে ওরা স্বপ্ন দেখে বারবার

Tuesday, November 22, 2011

সেই মুহুর্তে...

একটি মুহূর্ত
বারবার আড় চোখে দেখা
হাসি মিষ্টি চাওনিতে
এরই নাম কি..

জানা নেই,
মন কি চায়, কেন চায়
বোঝে না এই সুখ
বারেবারে হারিয়ে যাওয়া..

একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি
তুমি নেই...

Monday, November 21, 2011

গুণিতক


ফিকে হতে শুরু করেছে লাল পশিমাকাশ -
লাঠি হাতে পার্কের ধরে বসে
চুপচাপ সময় কাটানো; 
অতর্কিতে মুখোমুখি
চল্লিশ বছর পুরোনো অতীতের;
আমারই মত বলিরেখায় মিয়ম্রান জিজ্ঞাসা -
"তুমি ভালো আছ?"

ভগ্নাংশ


অনেকদিন পরে দেখা!
সেই এক বসন্তের বিকেলে
মুচকি হেসে চলে গিয়েছিলে;
আজ মোড়ের মাথায় -
সরু থেকে ভগ্নাংশ হয়ে গিয়েছে
সিঁদুরের পুরাতন রেখা...  

নিঃস্ব


এই নিস্তেজ অবসর !
ভেসে আসে মন উদাস করা গানের কলি -
সে যেন আমার বুকে বাসা বাঁধে;
যদি না পারি নিঃস্ব মন হতে মুক্তি পেতে,
পেতে চাই আর নিঃস্বতার স্বাদ...  

Sunday, November 20, 2011

আজ সন্ধ্যায়

ক্রমশঃ আবছা হয়ে যাচ্ছ তুমি!
লাল বেনারসী, কপালে চন্দন
বাষ্পীভূত সুগন্ধের সুখনীড়
ধেয়ে আসা শব্দ তরঙ্গে
আরও একটা মায়াময় সন্ধ্যা|

ক্রমশঃ আবছা হয়ে যাচ্ছ তুমি!
ফিরে আসা জলছবিতে
ভেঙে যায় স্বপ্ন
দু’চোখ ঝাপসা হয়ে যায় শূন্যতায়
আর হারিয়ে যায় একটা জীবন|

ক্রমশঃ আবছা হয়ে যাচ্ছ তুমি!
গা সিঁদুরের রঙ ওড়ে হাওয়ায়
এখান থেকেই দেখবো ভেঙে যাওয়া শরীর
আর তুমি দেখো, কোন এক
সামান্য বেঁচে থাকা মানুষের মুখ|

ক্রমশঃ আবছা হয়ে যাচ্ছ তুমি!

Thursday, November 17, 2011

আদিম


প্রকান্ড একটা অক্টোপাস !

ঐ সমুদ্রের তলে এঁকে বেঁকে
কিলবিল করছে শিকারের আশায়,
নিশ্বাস বুকে চেপে ওৎ পেতে বসে
আটটি পা আকুল আগ্রহ নিয়ে
শিকারের প্রতিক্ষা করছে..

একটা শিকার পড়েছে ফাঁদে-
সরু সরু পা গুলো উঠছে আর নামছে,
চোখ দিয়ে যেন ফুটে বেরুচ্ছে হিংসার আগুন;
বিষাক্ত শীতল স্পর্শ বুলিয়ে দিয়েছে
অসহায় শিকারটার গায়ে..

কিন্তু-কিন্তু ও কি !
ফাঁদটা যেন এবার
তারই দিকে এগিয়ে আসছে,
চারদিকে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে ফেলছে তাকে;
উ:, কি ভীষণ যন্ত্রণা..

আগুন ঠিকরে বেরোচ্ছে তার ড্যাবডেবে
চোখ দিয়ে - কামনার আগুন;
তবে কি এইমাত্র একটা শিকার পেয়েও
ওর খিদে মেটেনি?
ধীরে অতি ধীরে ওটা এগিয়ে আসছে..

কিন্তু পালাবার পথ কোথায় -
চারদিকে যে ফাঁদ দিয়ে ঘেরা,
এখনই বুঝি শীতলস্পর্শ বুলিয়ে দেবে;
তারপর - 
না, কিছুতেই না - না ..

প্রকান্ড একটা অক্টোপাস !
যেন চুষে খাবে তার দেহের সমস্ত রক্ত,
পলেস্তরা খসা মানুষ তাকে নিস্তার দেবে না;
আর নয় এবার দাঁড়াতে হবে -
মেয়েটিকে বাঁচাবার জন্য...

Monday, November 14, 2011

পশলা

সহসা চিতার আগুনে ঝাঁপ দিই
ফুলকি শেষে পৌঁছাতে চাই
ওই দুর্দম আকাশের শেষে
পরে থাকে স্নান শেষে
সাদা পোষাকে অসার সন্তপ্ততা

প্রশ্ন জাগে শুদ্ধতার আবরণে
সে চাউনি কোথায়

বৃষ্টি নেমে আসুক গ্লানি ধুয়ে দিতে
বাতাস বয়ে নিয়ে যাক ক্লান্তির নিঃশ্বাস
রোদ্দুর পুড়িয়ে দিক সমস্ত অসারতা
বাষ্পীভূত হোক জমে থাকা অকারণ ক্ষোভ
ভেসে চলুক পাপের সমাধি

একবার, মাত্র একবার কাঁদ তুমি
পড়ে থাকা ছাই মিশে যাক
অন্তরের গভীরে
মাটিতে

Saturday, November 12, 2011

নিজের কাছে


অকারণ স্বপ্ন দেখিও না
শিখিও না ভালবাসতে
যদি খেলা করতে চাও
তবে খেলতেই এস
বহু কষ্টে উত্তাপে দগ্ধ হতে শিখেছি
নিজেকে নি:শ্বেসে জ্বালিয়ে পেয়েছি
বাতাসের কন্ঠস্বর
আকাশের পবিত্রতা
আর মাটির ঘ্রাণ

মিথ্যে স্বপ্ন দেখার খোঁজে
সাঁতরেছি লোনা জল
হেঁটেছি ঘরের মধ্যেই
আর ভাবনাগুলো
ছিঁড়ে দিয়ে গেছে মাস-মজ্জা
শুধু একবার মুখোমুখি হও
চোখে চোখ রেখে
রোমাঞ্চিত ইশারায় ভাসুক মেঘদলের তাজা রং
জাগিয়ে দাও আমার সাহস...

Thursday, November 10, 2011

বৃষ্টিকে


ভাসমান নিস্তব্ধতা স্পর্শ করে শরীর
শিরা-উপশিরার ওম ছুঁয়ে যায় বৃষ্টি
ঠিক সেই মুহুর্তেই
নিজের শবযাত্রায় নিজেই কাঁধ দিয়ে
শাড়িতে জড়ানো শরীর দিলে পুড়িয়ে
বৃষ্টি এসে গেছে সবুজের অপেক্ষায়
ভেসেছে সংসার, ভেসে গেছে রৌদ্রে কলঙ্কের কাহিনী
আর, দুরন্ত মেঘের বুকে পাঞ্জা কষে বিদ্ধস্ত আকাশ...

কতদিন পরে আজ আদরের নামে ডাকলো বৃষ্টি
ভিজিয়ে দিল সমস্ত আবরণ
শুধু বলে গেল না
আমার হৃদয়ের ঠিক কোনদিকে সে আছে...

Wednesday, November 9, 2011

বৃষ্টি ভাঙ্গন


বৃষ্টি হয়ে গেছে আমার মন
আবার রৌদ্রের প্রতিক্ষায়
বন্ধ ঘরের চাবি খুঁজি,
চারপাশ বড্ড রঙিন, বেমানান
সাদাকালো এই আমি
প্রজাপতির স্বপ্নে চোখ তুলি
পিয়াল শাখায়, চন্দ্রমাল্লিকায়;
শুয়পোকারা হেসে যায়..

তবুও বিবর্ণ দুপুরের পর আসে রাত্রি
ক্রমশ: সকাল
বৃষ্টি শেষে উঁকি দেয় সোনা-রোদ, তবু
বৃষ্টি যে আমার মনেই...       

Monday, November 7, 2011

তোমাকে দেখে


এমন গোধুলি লগ্নে
হাতের মুঠোর অনুভবে
এক মুহুর্তের স্পর্শে, আঁকতে থাকি

মুখের ছবি..
অমলকান্তি রোদের পাঠশালার
ছুটি হয়, সিয়ানের মেঘ
আড়মোড়া ভেঙ্গে নিয়ে যায়

রাত ঘুম আর স্বপ্ন..
চোখ মেলতেই চনমনে
অনুভুতি, নিজেকে দেখি
বুঁদ হই মাঠের সবুজে জোছনায়

দু'চোখ রেখে..
আরেকবার, ফেলে আসা অভিমান
নীড়ের ওমের সাথে তোমার স্পর্শে
দুরন্ত ঝড় হয়ে এলে

ভালোবেসে টুপটাপ ঝরব এখন...