চারপাশে আবার শারদ বারতা| নতুন জামা-কাপড় আর
সুগন্ধী ছড়িয়ে যাচ্ছে আসে পাশে| ট্রেনে যেতে যেতে রেল লাইনের পাশে মাঝে মাঝে কিছু
কাশফুলের হঠাত হাওয়ার ঝাপটায় দুলে ওঠা ভেসে ধানক্ষেত পার হয়ে আরও দুরে| মনে হয়
কয়েকদিনের ছুটিতে পাওয়া এই প্রাপ্তিই বা কম কিসে! ছোট ছেলেটার ডাক স্তম্বিত ফিরিয়ে
দেয় – চালের পাপড়, মাত্র তিন টাকা প্যাকেট|
যার নতুন জামা-প্যান্ট পরে হাতে বেলুন বা
পকেটে ক্যাপ ফাটানো বন্দুক নিয়ে ছুটোছুটি করার কথা; চালের পাপড় নিয়ে পসার সাজিয়েছে
সে ট্রেনের কামরায়| কেউ কেনে, কেউ কেনে না| স্টেশন আসে| হারিয়ে যায় অন্য কামরায়|
আমরাও নগরায়নের যুগে হারিয়ে যেতে দেখছি ক্রমশঃ
কাশফুল| আকাশে ছেড়া মেঘের সারি দেখার জন্য মাথা তুলে ফাঁক ফোকর খুজতে হচ্ছে| হাতে
গোনা সাবেকি পুজোও ক্রমশঃ ম্লান হয়ে আসছে| প্রচার আর গিমিকের যুগে এখন
সপ্তাশ্চর্যের হাতছানি| কোথাও ঘাসের প্যান্ডেল, কোথাও সন্জিবনির, কোথাও ভাড়ের,
কোথাও বা কাঁচের| মূর্তি পুজো ছাপিয়ে গিয়ে প্যান্ডেলই এখন প্রথম সারিতে জায়গা করে
নিচ্ছে| চারপাশে রঙচঙে ফানুস| আর আমরা তাতেই উদ্বেলিত| ক্রমশঃ কমছে বেলুন, আর
ক্যাপ ফাটানো বন্দুক নিয়ে খেলা| হারিয়ে যাচ্ছে শুভ বোধ| সবকিছুতেই এখন লোক দেখানো
মেকি আন্তরিকতা| পুজোর নামে লাগামছাড়া মাতাল উল্লাস|
একে অপরের কল্যাণ কামনাই যে সার্বজনীন
পুজগুলোর মূল উদ্দেশ্য তাই আজ আমরা ভুলতে বসেছি| শক্তিমান ও ক্ষমতা লোলুপদের
শক্তির দ্বন্দে আর অর্থগৃধুগ্নতায় অনেক গুনী ব্যক্তিরাই শেষ পর্যন্ত সরে দাড়ায়|
চাঁদা আদায়ের নামে অনেক সময় অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও অক্ষম মানুষের উপরে জুলুম,
প্রতিযোগিতার নামে পাড়ায় পাড়ায় রেষারেষি পুজোর পবিত্রতা কতটা ধরে রাখে সেটাই
ভাবার| আর এভাবেই আস্তে আস্তে হারিয়ে ফেলতে থাকি নিজেদের মূল্যবোধ| যা হচ্ছে হোক –
এই মানসিকতাই হারিয়ে দেয় আমাদের|

