Monday, December 26, 2011

তোমায় দেখেছি

তোমায় দেখেছি সন্ধ্যাপ্রদীপ হাতে
গোধুলিয়া বাঁশি আর জোনাকি রাতে
তোমায় দেখেছি হতে শুকতারা
পাহাড় নদী হিরণ্যগর্ভভরা
তোমায় দেখেছি মিশ্ররাগের মুর্ছনায়
তৃষিত চাউনি আর সূর্যের প্রতিক্ষায়

একটা ভাললাগাকে দেখেছি
কল্পনা করেছি
বহু কষ্টে উত্তাপে দগ্ধ হতে শিখেছি
অতৃপ্তি নিয়েছি
আবিরে রাঙা আকাশ মেখেছি

তোমায় দেখেছি কলসি কাঁখে
কৃষ্ণচূড়ার কাছে পথের বাঁকে
তোমায় দেখেছি নিভৃত অগোচরে
সভ্যতার উপবনে অস্ফুট স্বরে
তোমায় দেখেছি হাজারো মুখে
তোমার মুখেই অন্যের সুখে...

Friday, December 23, 2011

অজান্তে

জানা ছিল না;
মায়ের পড়তে বসানোর আবদারে
চিৎকার করে সিঁড়ি ভাঙতাম আমি..
হিসেব মেলেনি,
সিঁড়ি ভাঙ্গা অঙ্ক আজও
সিঁড়ি ভেঙ্গেই চলেছে..
অন্ধ রাগে মাকে ছিঁড়ে
কুটি-কুটি করেছি,
নিঃশব্দ ভেজা চাওনি
বলে গেছে বারবার..

জানা ছিল না;
অস্তরাগ শেষে মায়ের
লাল পাড় শাড়ি কখন যেন
ফ্যাকাসে থেকে সাদা হয়ে
আজও হিক্কার তুলে চলেছে...

Wednesday, December 21, 2011

দখল

সময় ভেসে যায় অন্তরীণ পথে,
পুকুরের মাছটা আজ
     বাজারের দোকানে বটির সামনে..
তবুও
পুকুরপাড়ের সেই চারাগাছ্টা
আজ মহীরুহ হয়ে আকাশ ছুঁতে চাইছে -
তারই তলায় সদ্য প্রসূত একটি ঘর,
জঞ্জালের আক্রমনে
     মাছেদের রাজ্য দূষণ কবলিত;
দিনের পর দিন...
তবুও
আভিজাত্যের গরিমায় সেই বাড়িটা
আজ আলোকিত হয়ে সকলকে তাচ্ছিল্য করছে -
তারই তলায় সদ্য মৃত একটি পুকুর,
মাছেরা আজ নেই
     নেই পুকুর পাড়ের সেই গাছটাও
দিনের পর দিন...

Monday, December 19, 2011

না

সত্যি বলছি আমি
দুষ্টুমি একটুও করি না
সারাদিন পড়ি শুধু
গাছেতে কখনও চড়ি না

দুধ খাই সকালেতে
স্কুলে যেতে কাঁদি না
মাঝে মাঝে খেলি শুধু
তবু হাত-পা ভাঙ্গি না

ফিরে এসে গান গাই
ছুটোছুটি করা হয় না
রাত্রে যেতে পারি ছাতে
একটুও ভয় পাই না

তাড়াতাড়ি খাই আমি
মায়ের অবাধ্য হই না
বাবার কাছে গল্প শুনি
নইলে আমি ঘুমাই না

তবুও দেখি আমি
মা আর হাসে না
মাঝে শুধু চেঁচামেচি
বাবা আর বলে না

একদিন মা বলে
বাবার কাছে যাবে না
বাবাও বলে ওই কথা
মায়ের কাছে শোবে না

তারপর কি হয়েছিল
আমি কিছু জানি না
অনাথ আশ্রমে মানুষ
কাউকে ভালবাসি না

Thursday, December 15, 2011

লেপ-খেলা

কটা তো দিন মাত্র!

গায়ে দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই
তাকে ফেলে দিতে হয় ছুঁড়ে
পায়ের নিচে বা পাশে
আবার মধ্যরাতে কোল-বালিসের
মতোই তাকে টেনে আনা
আর শেষ রাতে আত্মসমর্পন
আতিশয্য, দুরত্ব, বিরহ
ছুঁড়ে ফেলা, কাছে টানার
এই জটিল লেপ-খেলা
বোঝে না কোনো কনজিউমার সোসাইটি

সব ঠোঁট যদি সর্বদা ক্রিম মাখে
তবে কারও জিভে বা ঠোঁটে
অন্য কারো ফাঁটা ঠোঁটের
খড় খড়ে তপ্ত অনুভুতি হারিয়ে যাবে না!
কটা তো দিন মাত্র!
খড়ি ওঠা পেটে
নাভির পাশ দিয়ে
নখ দিয়ে লেখা যায়
'তোমার জন্যেই এত আয়োজন
তোমার জন্যেই সব খেলা'

বোঝা দরকার!
কটা তো দিন মাত্র!
লেপ খেলা কি শুধু খেলা না
উষ্ণ আমেজের আদর...

Wednesday, December 14, 2011

দুপুর গড়িয়ে রাত্রি


'মাঝে মাঝে এই কেজো দুপুরে
হঠাৎই স্কুল পালানো দুপুর উঁকি মারে,
অফিসে বসে আজ টিফিন বক্স খুলতে ভয় করে
যদি বক্স খুলতেই প্রজাপতির মত শৈশব যায় উড়ে...'


'খিদের জন্যে মানুষ যেমন পথে নামে
বিকেল হলেই অঝোর ধারায় সন্ধ্যে নামে,
ডাকছি তাকে আদর করে ডাক নামে
আমার ডাকেই তাহার বুকে বৃষ্টি নামে!'


'খুব ইচ্ছে করে এই নিঝুম রাতে
ভিক্টোরিয়ার মাথায় একা পরীটা
     কেমন আছে একবার দেখতে যাই,
কোলকাতার আকাশে চোখ রেখে
পরীর কানে কানে আনমনে
     দুখ-জাগানিয়া গাই...'


সৌজন্যে: মীনাক্ষী সিনহা

ভাবনায়




ঠিক করেছিলাম
ঠিক সুর্য ওঠার আগের মুহুর্তেই
স্রোতের জলে একবার মাত্র
ডুব দিয়ে উঠে, কিংবা
ঠিক সুর্য ডোবার আগের মুহুর্তেই
জলের স্রোতে তাকিয়ে থেকে
ঠিক করে নেবো, সবকিছু
কেমন এলোমেলো হয়ে গেছে শরীরে

ঠিক করেছিলাম গান গাইব
    ঠিক করা হয়নি কোন সুরে
ঠিক করেছিলাম ভালবাসব
    ঠিক করা হয়নি কেমন করে
ঠিক করেছিলাম হারিয়ে যাব
    ঠিক করা হয়নি কার সাথে

ঠিক করেছিলাম
অনেক কিছু ঠিক করে নেবো ঠিক
সব ঠিক করে নেবার আগেই
পৌঁছে যাবো তোমাতে, কিংবা
ঠিক করে নেবো কি ঠিক করেছিলাম...

Monday, December 12, 2011

অভিমন্যু


ফেলে দাও বৃষ্টি
ভালবাসা স্নেহ মাখানো
চোখের জল
পুড়ে ছাই অথবা মাটির সাথে মিশে
এক মুঠো আকাশ
একই পরিনতি হিক্কার দিয়ে..

নিঃশব্দ ভেজা মরুভূমি,
মরীচিকা হয়ে জংলা গাছ
আদার খেয়ে
মাস্কারা মেখে আনাগোনা রোজ
সমতল থেকে উচ্চভূমি -
কুকুরের মত গলায় শেকল..

নদীর ওপর দিয়ে চাতক,
সীগালের চিৎকার গর্ভবতী হয়ে
এক পশলা রৌদ্র,
তুমি, আমি সকলেই একই
আপাদমস্তক ভদ্র সবুজ -
মৃতদেহ...

Friday, December 9, 2011

ক্যানভাস



সারারাত জেগে এঁকেছি তোমায়
ক্যানভাসে টেনেছি তুলির টান
একটার পরে একটা রং
ঘন হয়েছে ক্রমশ: আব্রু

ঘুম এসেছিল তাড়া করে
স্বপ্নচারিনীরা দিয়েছিল হানা
পাশবালিসটার নিরব চাওনি
বাঁধা হয়নি তোমায় আঁকব বলেই

কোন রং এ শুরু হয়েছিল তোমার সাজ
মনে নেই তা ইজেল না পেন্সিল স্কেচ
তোমায় দেখে বা না দেখার ছলে

ভোরবেলা ক্লান্ত আমি সিক্ত আমি
বেদম ঘুম আমার চোখে
রোদ এসে ঝাপটা মারে বিছানায়
আঁকড়ে ধরি শক্ত করে তোমাকে

আলো-ছায়ায় মাখামাখি তখন তুমি
ভেসে আসে ভোরাই সুরের বাঁশি
তুলির টানে নিমেষে তুমি বন্দী
মনের ছেঁড়া খাতার ক্যানভাসে

আরেক পশলা রং-এর বৃষ্টি তোমার ওপর
সারা রাত জাগা চোখ দুটো লাল
ক্যানভাস বেয়েই কাঁদছ তুমি
ছিড়তে চাইছ আব্রু সোচ্চার প্রতিবাদ...

Monday, December 5, 2011

বেলাভূমি


সিগালেরা উড়ে গেল দূর প্রান্তে,
হাওয়ার ঢেউ আছড়ে পড়ল
মুখের বেলাভুমিতে..
সমাধিতলে রচিত হলো এক
স্বপ্নিল আবছায়া অন্ধকার,
মুখের বেলাভূমিতে..

ক্রন্দিত ঘাস এক বিন্দু ছোঁয়ায়
উপর পানে চেয়ে গেয়ে যায়,
ভিজতে ভিজতে কান্না..
দুরারোগ্য ব্যাধির মত
আঁচড়ের পর আঁচড় ছড়িয়ে পরে,
তুমি কি কখনো সুখ দেখেছ?
ঝাপটায় নুইয়ে পড়া ফড়িং
সাঁতার কেটে যায়,
মুখের বেলাভূমিতে..

শুকনো জলের দাগ
আরও শুকনো হতে হতে
ঠোঁট ছুঁয়ে যায় আমার..
একরাশ ভিজে গন্ধ নিয়ে
জলীয় বাষ্পগুলো গল্প করে,
চাঁদ ওঠে না..
সিগালেরা ফের ফিরে আসে,
বৃত্তে ঘুরতে ঘুরতে এক চিলতে
মুখের বেলাভূমিতে...      

Sunday, December 4, 2011

ভাসমান

বহুদূর থেকে নীল জল
আছড়ে পড়ছে সমুদ্র সৈকতে,
ঝাউবনের লম্বা ছায়াগুলোকে
যেন স্নান করিয়ে দিয়ে যাচ্ছে..

মাঝদরিয়ায় জেলেদের আনাগোনা -
তারপর দিগন্ত রেখায়
ছোট ছোট নৌকার সমাবেশ,
সমুদ্রতীরে বসে শুধু ভাবা -
একের পর এক ঢেউ আসে,
আবার চলে যায়;
        তেমনি তো আমাদের জীবন...   

Thursday, December 1, 2011

আটপৌড়ে আমি


আটপৌড়ে শাড়ির মতই
আমি জড়িয়ে থাকি সারাক্ষন
কখনোবা আলনায়, বারান্দায়
কিংবা ছাদের আলসে ছুঁয়ে;
সহজ করে সহজ ভাবে
ফেলে রাখা যায় আমায়
খাটেকোনে, বাথরুমের
দরজার বাইরে বা ভেতরেও;
তাড়াহুড়োয় জড়িয়ে নেওয়া
কোন এক অঙ্গীকারের মতই...

লকারে রাখা গহনা কিংবা
আলমারির থাক থেকে বেছে নেওয়া
কাঞ্জিভরম বা দামী শাড়ির কাছে
যখন থমকে দাঁড়াতেই হয়;
ফিরে আসা ফেলে আসা
ন্যাপথলিনের গন্ধ মিশে যায়
সুগন্ধের সাথে, পলেস্তরা খসিয়ে
সেই পুরনো গৃহস্থ্য জীবন;
ফের আটপৌড়ে শাড়ির বাঁধন
অবচেতনে আরামের প্রতিশ্রুতি...

সেখানে তখন আমি আর নেই,
নেই আমার মতই মিলিয়ে যাওয়া
আটপৌড়ে ন্যাপথলিনের গন্ধ-ও...