Sunday, September 24, 2017

দুর্গাপূজার তত্ত্বকথা

দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের প্রকৃত তত্ত্ব কী, পূজা শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে যা করলে জীবনে উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়পূজা শব্দটি এসেছে পূজ ধাতু থেকে। এই পূজ ধাতুর অর্থ হচ্ছে বর্ধনশীলতাউৎসব শব্দটির অর্থ হচ্ছে উৎস অভিমুখে গমন’; অতএব পূজা বা উৎসব শব্দটি একই অর্থ বহন করে। এই দুর্গাপূজা বা দুর্গোৎসবের মধ্যে দুটি তত্ত্ব নিহিত আছে। একটি জাগতিক বা সাংসারিক এবং অন্যটি আধ্যাত্মিক। এ পূজার জাগতিক অর্থ হল বাস্তব জীবনের উন্নয়ন। দুর্গাপূজা করা মানে হচ্ছে দুর্গা হওয়া। দুর্গার দশটি হাতের অর্থ হল দশদিকের কর্মযোগ্যতা বা দক্ষতা। একজন নারী যখন সংসারের সকল কর্মে দক্ষতা লাভে ব্রতী হয় তখনই তার সংসার সুন্দর হয়। আর সুন্দর সংসার হতে হলেই লক্ষ্মী-সরস্বতীর মত কন্যা এবং গণেশ-কার্তিকের মত পুত্র হওয়া বাঞ্চনীয়। আর সুন্দর সন্তান জন্মাতে প্রয়োজন স্বামীর প্রতি অবিচ্ছেদ্য টান। শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র বলেছেন, স্বামীর প্রতি টান যেমনি, ছেলেও জীবন পায় তেমনিতাই দুর্গাপূজার শিবঠাকুর দেবীর মাথার উপরে।

দুর্গার দশটি হাতের মধ্যে একটি আশির্বাদের অভয় হস্ত এবং বাকী নয়টিই হচ্ছে প্রহরণ যন্ত্র। এই নয়টি প্রহরণ যন্ত্র দিয়ে মহা শক্তি জগতের অমঙ্গলকে ধ্বংস করবে। তাই প্রতিটি মা যদি জীবন্ত দুর্গা না হয়ে ওঠে তবে এ পূজার সার্থকতা কোথায়? মাটি দিয়ে গড়া এ প্রাণহীন প্রতিমাকে তাই পুরোহিত মন্ত্রপুত করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে, চক্ষুদান করেন। তেমনি প্রতিটি নারীর মাঝে ইষ্টমন্ত্র বা দীক্ষাদান পূর্বক নূতন করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও জ্ঞান চক্ষুদান করে জগতের দুর্গতি নাশে যত্নবান হলেই আমাদের এ দুর্গাপূজা সার্থক হবে। সংসার যখন দুর্গা-মণ্ডপে পরিণত হবে তখনই হবে এ পূজার সার্থকতা। নতুবা মাটির পূজা মাটি হয়েই যাবে। এটাই দুর্গাদেবী তত্ত্বের আধ্যাত্মিক দিক, এখন আসা যাক আধ্যাত্মিক অর্থের দিকে। একটি মানবদেহের তিনটি ধারা - ইড়া, পিঙ্গলা এবং সুষুম্না। এই সুষুম্নাতে অবস্থিত ছয়টি চক্র। এগুলি হচ্ছে মূলাধার, সাবিষ্ঠান, মণিপুর, অনাহত, আজ্ঞা এবং সহস্রার। আমাদের মণিপুর চক্র বা দশম দলে দুর্গা পূজা হয়। মূলাধারে চতুর্থদল পদ্মে মহামায়া অবস্থিত। ভক্ত যখন প্রণব বীজের সাহায্যে মহামায়ার মায়া বন্ধন ছিন্ন করত সাবিষ্ঠানচক্র পার হয়ে মণিপুর চক্র বা দশম দলে সাধনায় ব্রতী হয় তখনই শুরু হয় যোগমায়া বা দুর্গাদেবীর সাধনা। এই সাধনায় সিদ্ধ হলে মানুষ মায়াপাশ ছিন্ন করতে পারে এবং ত্রিতাপের জ্বালা থেকে নিস্কৃতি পায়।

সুতরাং এ পূজা আমাদের বন্ধনমুক্তির পূজা। এ পূজা সকল সংকীর্ণতা, কুসংস্কার ও ভেদ বুদ্ধির অবসান ঘটায়। মায়ের এক নাম ব্রহ্মময়ী। এই ব্রহ্ম শব্দটির বুৎপত্তিগত ধাতু হল বৃন্হ অর্থাৎ বিস্তৃতি। অতএব বিস্তৃতির মধ্যে যার অস্তিত্ব তিনিই ব্রহ্মময়ী। তাই এই ব্রহ্মময়ী দেবীর আরাধনায় আমরা বৃহতের সন্ধান পাই। অসুর নাশিনী মা যে অসুরগুলির বিনাশ করেন সেগুলি আমাদের মধ্যে নিত্য বিরাজ করছে। সেগুলি হল কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য। এই ষড়রিপুর বহির্মুখী গতিকে ফিরিয়ে এনে অন্তর্মুখী মায়ের চরণে নিবেদন করাই প্রকৃত দুর্গাপূজা।
[তথ্য-লিখন সংগৃহীত]


Wednesday, August 23, 2017

তবু ব্যাথা থেকে যায়



বাঁক ঘুরবার ঠিক আগেই 
আরেকবার পিছনে ফেরা
যা কিছু হারিয়েছি, হেরেছি
সব ফেলে রেখে পর্যদুস্ত
এই আমি’র, গভীর দীর্ঘশ্বাস
নানা রোগ এসে বাঁধে দেহে
যত না শরীরে, তারও বেশি মনে
ডান বুকে চিনচিনে ব্যাথা
হাঁপ ধরে যায় অনিয়মে
তারপরেও বাঁক ঘুরতেই হয়

সামনে যে সবুজ প্রান্তর
কচি কচি ঘাস ফুলের আনাগোনা
শীতকালে শিশিরে পা মেখে
কুয়াশা ঘিরে রাখা জীবনে
রোজকার হেঁটে চলা নিয়ম মাফিক
যন্ত্রণা উপশমের ওষুধ খেয়ে

ডান বুকের চিনচিনে ব্যাথা
সত্যই যায় কি!

Saturday, July 22, 2017

ভালো থাকার লড়াই



একটু ভালো থাকতে চেয়েছিল
অনিমেষ|
রোজকার টানাপোড়েন, বাসের ভিড়
পেরিয়ে
রোজকার উচাটন, জিনিসের দাম বেড়ে
যাওয়া
সবকিছুকে সঙ্গে করেই জারী ছিল
লড়াইটা

শুধু একটু ভালো থাকতে চেয়েছিল
অনিমেষ|
সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একসাথে, বসে
খাওয়ার
ছুটিতে মাঝে মধ্যে বেড়ানো, আলগোছে
প্রকৃতি
স্ত্রী-সন্তান সবাইকে নিয়েই জারী ছিল
লড়াইটা

হয়তো একটুই ভালো থাকতে চেয়েছিল
অনিমেষ|
শুধু ভুলে গিয়েছিল, একার চাওয়ায় তা
হয় না
সবাইকে সঙ্গে চাইলেও, কেউ কেউ তা
মানে না
কথার পিঠে কথাই বাড়ে, জারীই থাকে
লড়াইটা

Friday, June 30, 2017

আয়নার কোণে


এখনো সেই চ্যাটচ্যাটে স্পর্শ
সোঁদা মাটির গন্ধের মতো
আছড়ে পড়ে জমে থাকা জলে
যে কোণটায় তাবিজ পড়ে আছে
কিংবা ঘুলঘুলি বেয়ে নেমে আসা
বৃষ্টি জলের দাগ শুকনো হয়ে
ফুড়ুত করে একদিন উড়ে যাওয়া
চড়ুইটার মতোই পুরোনো জমে থাকা
খড়কুটো কালবৈশাখীর দাপটে
সারা ঘর জুড়ে ধুলো আয়নায়
আঙুলে দাগ কেটে কিছুটা স্পষ্ট

নিজের মুখের সেই কাটা দাগ
উল্টোদিকে মায়ের মন কেমন করা
চাউনি আরেকবার ছুঁতে চায়
আয়নার কোণটা, যেখানে আজও
মায়ের টিপের চ্যাটচ্যাটে আঠা
ক্রমশ ঢাকা পড়ে যায় ধুলোয়

Saturday, June 17, 2017

ইনসমনিয়া


কথা ছোটো হয়ে হোয়াটসএ্যাপে ইমোজি
জন্মদিন মনে রাখে ফেসবুক
স্যাশে কেটে মেপেমুপে ক্যালোরি খাওয়া
আর রোজ রোজ স্টেটাস আপডেট

স্ক্রল করে দেখা চিপে জমানো ছবি
ইএমআই-এর ফাঁদে শপিংমলের জীবনে
ফোন বদলাতে গিয়ে হ্যাংগড ডকুমেন্টড স্মৃতি
সাইকেল ক্রমে মিলিয়ে যায় ছুটির দুপুরে

মাল্টিপল চয়েসে খালি টিক মারা
বার্নল লাগায় জিনিসের দামের আঁচে
অবান্তর স্বপ্ন স্কেলে মেপে হয়েছে বনসাই
পারিবারিক ফটো এখন খালি এলবামে

চোখ বুঁজে আসে, বেজে ওঠে মোবাইল টোন
বাজেনি আসলে, মনে হয় বেজে চলে মুহুর্তগুলোয়

কতগুলো লাইক বা কমেন্ট পড়লো তাই টেনশন
লেবুপাতার সুগন্ধি ফেলে উষ্ণ মিছিরিদানা
চেকলিস্ট তাই গুগলনোটেই আটকে থাকে
তবু একা অনেকগুলো গাছ আজও আনমনা

Tuesday, May 23, 2017

বৃষ্টি হাওয়ায়



বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিল ধুলো মাখা পথ 
বৃষ্টি হাওয়ায় উড়িয়ে দিল ফেলে রাখা শপথ 
আমার মনের মাঝে ঝড়, পথ বলে 
অপেক্ষায় কেন, ভিজতে হলে ভিজবি চল 
নইলে দমকা হাওয়ায় ফের শুকিয়ে যাবে জল

তোকে কোথায় দেখেছি বল তো! আমি তো নিঝুম 
সেদিন রাতে মেঠো হাওয়ায় যখন আসছিল না ঘুম 
সেই যে কৃষ্ণচূড়া এলোমেলো, বৃষ্টি বলে 
সব পথেরই বাঁকে আমায় পাবে যদি ভেজো 
একই রকম আছি ঝিরিঝিরি বা ঝমাঝম আজও...

Saturday, May 13, 2017

বৃষ্টি




শরীরকে বৃত্ত করে বাস্পবিন্দুরা
নিয়তির অপখেয়ালে বাস্তুহারা
তবু জোট বাঁধছে অবজ্ঞায় নিদারুন
আসতে পারে নেমে মুঠো ভেঙে অকারন

শুকনো মাটি কাদা করে উত্সাহ সবুজের
হাসি মুখে কোমর কষে হাসি ফোটে অবুঝের