Saturday, May 31, 2014

আগুনে ভিজুক তোর্ চোখ



মাঠ থেকে ভেসে আসে উল্লাস ধ্বনি
পছন্দের দল জিতে গেছে, ফাতে পটকা
তবু তুই শুকনো চোখে চেয়ে থাকিস পথে
আগুনে ভিজুক তোর্ চোখ

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি রেণু ভেসে বেড়ায় বাতাসে
বৃষ্টি শেষে স্বস্তি, মাথা নাড়ে সবুজ ধান
তবু ভিজে শরীরে অপলক শুন্য দৃষ্টি
আগুনে ভিজুক তোর্ চোখ

যারা চলে গেছে ফিরবে না কোনদিনও
শুধু বেঁচে থাকা জীবনে বয়ে চলে সময়
তবু উদ্বেল মন পাড়ি দেয়, আপসহীন যাত্রা
আগুনে ভিজুক তোর চোখ

(সব অভিমান পুড়ে যাক নির্বাক স্নিগ্ধতায়
শুদ্ধ হোক সে পাপ নিবারিত জঠর জ্বালায়
তবু আরেক বুক বেঁধে নিক প্রেমহীন ভালবাসা
আগুনে ভিজুক তো চোখ)

ভিজে গেছে



ভিজে গেছে
বারান্দায় মেলে রাখা আটপৌরে শাড়ি
দমকা হাওয়ায় কার্নিসে আটকে পরা চাদর
আর বেখেয়ালে হেঁটে চলা এই আমি|
আর তখনও
রাস্তার ধারে বৃষ্টি আগলে বসে
খুচরো পয়সা গুনে চলে যে ভিখিরি বুড়ি মা
যেটুকু চেয়েছ, মুঠো ভরে সব দিয়ে যেতে চাই
দুপুর বা জেগে থাকা অসুখের রাতগুলো
কতদিন কতখানি পেরোলে ভুলে যেতে পারি সব

ভিজে গেছে
ধুলো মাখা পথ যতদূর যায়
ভেসে বেড়ায় উষ্ণ মাটির সোদা গন্ধ
আর হঠাত্ কোনো এক প্রান্তে এই আমি|
আর তখনও
রাস্তার ধারে জুবুথুবু বোকা
ভালবাসা কিছু পাব বলে
হাত পেতে বসে থাকি
মুঠো জল, যেটুকু চেয়েছ সবটুকু দিয়ে দিই|

বৃষ্টি নামল




বৃষ্টি নামল|
ভিজিয়ে দিয়ে গেল
বুক পকেটে রাখা বিবর্ণ চিরকুট-টা|
কথা ছিল ভাঁজে ভাঁজে
যখন কেটে কয়েক টুকরো হয়ে যাবে
আরও কিছু টুকরো করে উড়িয়ে দেব
অচেনা কোন পাহাড়ের ওপর থেকে,
ভাসতে ভাসতে কোন টুকরো হয়তো
ছুঁয়ে দেবে উড়ে ফেরা এক ফালি মেঘকে

অনেক গোপন কথা জমানো আছে
কথা ছিল সময় করে
সব কিছু লিখে হালকা করে ফেলবো
মনের কুঠুরিগুলো আর বুক পকেট-টা;
বৃষ্টি নামল|
ভিজিয়ে দিয়ে গেল
বুক পকেটে রাখা সেই-সব ভাবনাগুলো-ও|

বৃষ্টি নামল|