Friday, September 30, 2011

আমার জন্মদিনে



মৃত্যু নেমে আসুক আন্দাজ মতো, আর
থমকে আছে যে সময় তবু চলছে অবিরত
ছুঁয়ে আছে যে সব মুহুর্তরা
   আমার ঠোঁটে গালে চোখে
আজ কিছু দিতে চাই যা আছে
   পেয়েছি অনেক, মনের দেরাজে

আরেকবার ফিরিয়ে নিলাম নিজেকে আলগোছে
বেঁচে থাকার মানে নিজের মতই থাকুক বেঁচে..

জীবন চলতে থাকুক নিজের মতো, আর
যে ডুয়েট স্বপ্নে স্ট্র ডোবানো ছিল অনাবৃত
স্পর্শের আড়ালে সব দুঃখ গোপন
   উড়িয়ে দিয়ে গহন অভিসারে
বুকের মধ্যে জাপটে রাখি জ্যোস্না
   বাঁশির সুরে ডাকেনা আর দূরে

এখন তুমি নিতান্ত খাঁড়ি, স্রোতহীন স্বপ্নহীন বোবা জলরেখা
আমার কাছে, ভালোবাসাই হোক, প্রতিশ্রুতির শেষ কথা..

মৃত্যু নেমে আসুক আন্দাজ মতো, আর...

Thursday, September 29, 2011

সত্যি অনুভবে

অবুঝ যে মন
ছুঁয়েছে তোমার রাত্রি শরীর
শূন্য যে চোখ
জ্যোস্না মেখে নিতে নিতে
ছুঁতে চেয়েছিলো আরও অনেক বসন্ত
তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়,
কেন তাকে আজও ভালোবেসে যাও
যখন তুমি নিজেও জানো
যে সে তোমার অনুভব বোঝেনি
যেমন ভাবে তুমি অনুভব করো..

হয়তো মেঘ ভাঙা যে জল
মেঘেই লুকায়, প্রতিটি পাঁজরে
ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে সেই কথা,
জানে সত্যিকারের ভালোবাসলে
(আর সত্যি অনুভবে অনুভূত হলে)
কেউ ছেড়ে যেতে পারেনা কখনো
বিনা শর্তে, তবুও
তাকে যেমন জোর করা যায় না
আমায় ভালোবাসো বলে, তেমনি
নিজেকেও জোর করি কি করে
তাকে ভালোবেসো না!

অপূর্ণ স্বপ্ন
অস্পষ্ট কথা
ভিজতে থাকা স্মৃতি
কঠিন পাথর যেন নিমেষেই..
ভালোবাসাই তো পাশে দাঁড়ায়
বেঁচে থাকতে শেখায়
এগিয়ে নিয়ে যায় গন্তব্যে
ডানা মেলে উড়ে যেতে চায়,
কেউ আমাকে সত্যি ভালোবাসতে নাই পারে
তা বলে আমি কি কাউকে ভালোবাসতে পারি না..!

Tuesday, September 27, 2011

মহালয়ায়



তোমাকে পেরিয়ে চোখ রাখি
নীল নির্জন মন পাখি রোজ
করার যা ছিল, বলা নেই কিছু
একাকী শরৎ মেঘে হাঁটি আজ|
বুকে পাথর রাখতে বলেছিলে
শুধু পাথর নয়, পাথরের খাঁজে
খাঁজে গুজে রেখেছি সেই কবিতা
যখন বৃষ্টি নামে, সবই ভেজে..


তোমাকে পেরিয়ে এখনো সেই মুখ
পাশের কোলবালিশ বুঝতে পেরেছে
ছিঁড়ে ওড়াতে চেয়েছি যে টুকরো
নীল আকাশের বুকে, সাদা কাগজে|
আনমনে গেয়ে চলি মহালয়া সুর
হিসেব রাখিনা, ওই ইশারার মাদুরে
আমিত্ব ত্যাগ করলেই, ছুঁয়ে ফেলা
যায় আকাশ, তবু রয়েই যায় দূরে...

আয়নায় কিছু ভেজা সিঁদুরের গুঁড়ো


"আসলে হারায় না কিছুই, জায়গা পাল্টে পাল্টে থেকে যায় সবাই.. তুমি বাড়ি আছো! আর হঠাৎ সানাইয়ের শব্দে কাঁচা হলুদের ভোরে উড়ে আসা খলবল প্রজাপতির ডানার রং যে হাতে মেহেন্দি হয়েছে, সেই হাতের স্পর্শে মঙ্গল ঘটের বুক জুড়ে পড়ে থাকা স্বস্তিকা চিন্হের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঘুমিয়ে থাকা লাল হলুদের বিছানায় সুগন্ধ স্রোত ভিজিয়ে দিয়ে যায় দু’চোখ আর দু’চোখের জলের আয়নায় ভেসে ওঠে তোমার দ্বিতীয় নারীর ভেজা এলোচুলের ঘূর্ণি জলের ঝাপটার মুহূর্ত| পিছন দিয়ে চারের বাকি দু’হাত জড়িয়ে ধরতেই একুরিয়ামের কানা ধরে ঝুলে পড়ে তৃতীয়, চতুর্থ বা ক্রমান্বয়ে ক্রমিক নারীরা| নিঃস্তব্ধ পাথর অট্টহাস্যে ফেটে পড়ে আর তখনই জেগে ওঠে একটা পূর্ণাঙ্গ সত্তা| বুকের কাছটা ভিজে যায়| কিছু মিইয়ে যাওয়া শব্দ বাচ্চা শিশুর মতো থপথপ পা ফেলে এগিয়ে এসে বলে, ‘আমি তোমাকেই ভালোবেসেছি|’ আর তখনই ছিটকে আসে আয়নার গায়ে কিছু জলে ভেজা সিঁদুরের গুঁড়ো যার ইন্দ্রজালে আবদ্ধ তোমার মন কোনদিনই দেখতে পাবে না যা একটা মৃত – শিশিরকে বুকে আগলে রেখে ভোরের দোয়েলটার শিস দিতে ভুলে যাওয়ার গল্প| শুধু কয়েকটা বোবা দৃষ্টি তোমার ঘরের ভেন্টিলেটারে আমৃত্যু জেগে আছে..."

Monday, September 26, 2011

বিচ্ছুরণ



বিন্দু বিন্দু জল ঝরে কলাপাতায়
ঘাসের ওপর
অপরিসর শূন্যতায়
আঁকসি হাতে স্বপ্ন খুঁজতে গিয়ে
বেদম লড়াই
অপরিণত ব্যস্ততায়


মোড়ের মাথায় গোলকধাঁধা
পাশ ফিরতেই চেনা ছক
বলি পালটে নাও বোধটাকে
জীবন বোধ
অপরিসীম চতুরতায়


ছুটে পালানো ছেলেবেলার
হাফ-প্যান্ট আর ফ্রকের রহস্য
নেমে আসে ছড়ানো কলতলায়
আর নেমে আসা বিন্দু জল
আশ্রয় হীনতায়


তবু উঠে দাড়ায় পিছিয়ে পরা মুখগুলো
বৃষ্টি থামলেই নতুন মাটি
সৃষ্টির প্রতিক্ষায়
(নাগরিক সভ্যতায়)

Wednesday, September 21, 2011

মনের কথা


মেঘ বললেই বুকের ভিতর
ঘুমিয়ে পড়ি অল্প

একলা হলেই মন খারাপের
চেনা সেই গল্প

বৃষ্টি এলেই চোখের ভিতর
জলের ফোঁটা চারটে

মন খারাপের অসুখ আমার
সময় নেবে সারতে..

চেনা অন্ধকার



সব আলো নিভে যায়
চেনা অন্ধকার ছুঁয়ে যায়
সবাই তখন অচেনা
রাতজাগা কেউ একা
তাকে ছেড়ে যাবার ভয়ে
ভালোবাসতে হয় নিজেকেই..

ভেসে আসা নিয়ন আলোতে ঘুম ভোর রাতে
ভালো আছে যারা.. ভালো থাকুক তারা...