কিছু খাপছাড়া জায়গা ঘুরবো বলে একটি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে সবকিছু লিপিবদ্ধ করে রওনা দিয়েছিলাম..
সিটং, নামথিং, চটকপুর, লাটপাঞ্চার, মংপু, তাকদা, তিনচুলে, ছোটমাংওয়া, লামাহাটা, দাওয়াইপানি, দার্জিলিং, লেপচাজগৎ, জোরপোখরি, রংভাং, মাঙ্গারজংগাঁও, মিরিক
(18-01-2021 ~ 25-01-2021)
সিটং
কমলালেবুর গ্রাম সিটং-এর উচ্চতা মোটামুটি চার হাজার ফুট। কিন্তু ঠান্ডা সে তুলনায় কিছু বেশি। কারণ এটা একটা বৃহৎ ও ছড়ানো উপত্যকা। চারপাশ খোলা।
নামথিং
দার্জিলিং জেলার অন্তর্স্থিত এই নামথিং পোখরী হিমালয়ান ক্রোকোডাইল তথা লুপ্তপ্রায় স্যালামান্ডারের বাসস্থান। জলাশয়ের গহনে বাস করে এরা। বৃষ্টি হলে বা মেঘ করলে মাটির নীচে থেকে বেরিয়ে আসে। শুধুমাত্র স্যালামান্ডার দেখার জন্য নয়, নামথিং জলাশয় ও তার আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্য একবার ঘুরে আসাই যায় নিরিবিলি নামথিং পোখরীতে।
চটকপুর
জায়গাটির প্রাথমিক আকর্ষণ হ’ল এর দুর্দান্ত পর্বতমালার দৃশ্য এবং একটি শান্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। মাত্র ১৯ টি পরিবারের বাস এখানে – জনসংখ্যা ৯০ এর কাছাকাছি। ছোট্ট এই গ্রামটির চারপাশে যেদিকে তাকাবেন শুধু সবুজ আর সবুজ। মাথায় বরফের মুকুট – দিগন্ত জোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা। এ ছাড়াও হিমালয়ের আরও কতগুলি বিখ্যাত শৃঙ্গ দেখা যায়। যদিও আকাশ পরিস্কারের উপর এটি নির্ভর করবে। ঘন জঙ্গলে অপার নৈঃশব্দ্য।
লাটপাঞ্চার
মহানন্দা বন্যপ্রান স্যাংচ্যুয়ারির উচ্চতম জায়গা হল লাটপাঞ্চার। লেপচা ভাষায় লাট হচ্ছে বেত আর পাঞ্চার হচ্ছে জঙ্গল অর্থাত্ বেতের জঙ্গল লাটপাঞ্চার। এর গড় উচ্চতা ৪২০০ ফুট, ফলে গ্রীষ্ম এখানে আরামদায়ক আর শীতও হাড়কাঁপানো নয়।
এখানে গেলে পাওয়া যেতে পারে হিমালয়ের পরম সান্নিধ্যের সঙ্গে বিভিন্ন পশুপাখি দেখার সুযোগ।
মংপু
মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা বিখ্যাত বই ‘মংপুতে রবীন্দ্রনাথ’ পড়ে জানা যায়, দার্জিলিং পাহাড়ের এই ছোট্ট গ্রাম কবির সঙ্গে কী ভাবে জড়িয়ে ছিল। মংপুর আশপাশে বিশাল এলাকা জুড়ে চাষ হয় সিঙ্কোনা গাছের। আর এই সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে তৈরী হয় কুইনাইন।
তাকদা
‘তাকদা’ বা স্থানীয় ভাষায় ‘তুকদা’ কথার অর্থ হলো ‘মেঘে ঢাকা’। বস্তুত পক্ষেই পাহাড়ী ঢালে মেঘে ঢাকা সবুজে মোড়া এই হ্যমলেট। দার্জিলিং জেলার সুদৃশ্যতম চা বাগান গুলির সন্ধান মিলবে এই তাকদাতেই। সময়টা তাকদা অর্কিড সেন্টারে রং বেরংয়ের অর্কিড দেখে কাটানো যেতেই পারে।
রাত্রিবেলায় যখন ওদের ঘরে আলো জ্বলে মনে হয় আকাশের তারারা নেমে এসেছে পৃথিবীর বুকে।
তিনচুলে
তিনচুলে নামের মানে হলো – তিনটে চুল্লি বা চুলা! এখান থেকে পুরো হিমালয়ান রেঞ্জের একটা ১৮০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। তিনচুলে আকর্ষণ এর নি:সর্গ। কাছের সবুজ পাহাড় আর দূরের তুষারধবল শৃঙ্গ মন কেড়ে নেয়। সবুজ পাহাড়ের মধ্যিখানে দূর থেকে উঁকি দেয় বরফে ঢাকা ধবল পর্বতশৃঙ্গ।
ছোটমাংওয়া
যেখানে ঘর থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়, আছে বাড়ি ভর্তি নানান ফুলের গাছ আর আছে কমলালেবু গাছ।
লামাহাটা
মেঘ-কুয়াশা-পাইন-কাঞ্চনজঙ্ঘা সব মিলিয়ে জমজমাট লামাহাটা। পাইন গাছে ঘেরা এই জনপদ। মূল রাস্তার পাশেই আছে ট্যুরিস্ট পার্ক। ঢুকতে হবে টিকিট কেটে। হাঁটতে হাঁটতে উপরে উঠে একটি কৃত্রিম লেক। সুসজ্জিত পাইন বনের ভিতর দিয়ে ইতস্ততঃ হাঁটতেও মন্দ লাগে না। শুনতে পাওয়া যায় নানা ধরণের পাহাড়ি পাখির মধুর কাকলি। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখাও মিলবে তাদের।
দাওয়াইপানি
মাঝখানে দাওয়াইপানি যাবার কথা ছিল, কিন্তু রাস্তার অবস্থা ও অন্য আরেকটি বিশেষ কারণে যাইনি।
দার্জিলিং
দার্জিলিং নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দার্জিলিং শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ভাষার শব্দ "দুর্জয় লিঙ্গ" থেকে। এর অর্থ "অদম্য ক্ষমতার অধিকারী শিব, যে হিমালয় শাসন করে"। দার্জিলিংকে “পাহাড়ের রানী” নামে অভিহিত করা হয়।
লেপচাজগৎ
ওক, পাইন, রডোডেনড্রনে মোড়া রাস্তার দু’ধার। ‘মেঘ এখানে গাভীর মতো চরে’— যা মাঝে মাঝেই ঢেকে দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। নীল আকাশের নীচে ধুপি, গুরাস, চাপ, কাওলা, কারতুস, উতিস ও পাইনে ছাওয়া আদিগন্ত সবুজে মোড়া স্বর্গরাজ্য লেপচাজগৎ।
জোরপোখরি
দার্জিলিং থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত জোরপোখরি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৪০০ ফুট ওপরে রয়েছে এক জলাশয় ঘেরা শহর জোরপখরি । লেপজগতের কাছেই। শহরের লেক বা জলাশয়ে পাখির আনাগোনা থাকে বলে নাম জরপখরি। এখানের জলাশয়ে প্রচুর হাঁসের আনাগোনা। এখানেও রয়েছে জঙ্গল, ধুপি ফরেস্ট।
রংভাং
মিরিকের কাছে কমলা বাগানে আঁকা একটি শান্ত ও নিখুঁত হিমালয়ান গ্রাম।
মাঙ্গারজংগাঁও
মাঙ্গারজংয়ের বিশেষত্ব হ'ল তিস্তার দীর্ঘতম দৃশ্যটি 3500 ফিট উচ্চতা থেকে এবং প্রিয় মাউন্টের অত্যাশ্চর্য দৃশ্য উপভোগ করতে পারা যায় পরিষ্কার দিনে। জায়গাটি এতটাই শান্ত যে 3500 ফিট পাহাড়ের চূড়া থেকে তিস্তা নদীর প্রবাহিত শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।
মিরিক
মিরিক কথাটি এসেছে মির-ইয়ক থেকে এসেছে। এর অর্থ আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থান।
পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসা চা বাগান, সবুজ বণানী এবং মেঘের স্পর্শ এই স্থানকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এখানকার মূল আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। হ্রদের একদিকে বাগান, অন্য দিকে পাইন গাছের সারি।
লোকাল সাইটে যা যা দেখার আছে:
(আমরা পরপর এইভাবেই ঘুরেছিলাম নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে গাড়ি নিয়ে। রাত্রিযাপন নিজের খুশিমতো যে কোন জায়গায় করতে পারা যায়, তবে আগে থেকে প্ল্যান করে বুক করে অফবিট জায়গায় যাওয়াই শ্রেয়।) -->
Sittong local orange garden, Namthing Pokhri, Chatakpur Senchal Wildlife Sanchuary, Latpanchar, Orange garden, Church, Yogi ghat bridge, Mongpu - Rabindranath Tagore Stay house, Quinine Factory, Sincona, Takdha Orchid Park, Tinchuley Gumbadara View Point, teagarden, Chhotomangwa, Lamahatta Village, Lamahatta Eco Park, Dawaipani, Darjeeling, Darjeeling mall, Mahakal Mandir, Tigerhill, Batasia Loop War Memorial, Japanese Temple & Peace Pagoda, Tenzing & Gombu Rock, Himalayan Mountaineering Institute, Gokhra Football Stadium etc, Happy Vally Tea Estate, Zoo, Lepchajagat Village, Pine Forest View Point, Jor Pokhri, Simana View Point, Gopal Dhara Tea Estate, Orange Valley, Rangbhang, Mangarjungoan, Mirik..
ব্লগে লিখবো বলে ঠিক ছিল না, তাই সব হোমস্টের নম্বর নোট করে রাখা হযনি। খরচ কতজন যাওয়া হবে, কোথায় কি ভাবে থাকা হবে তার উপর নির্ভর করবে।
We booked all from: https://www.facebook.com/profile.php?id=100014110354034
আমার যারা গিয়েছিলাম:
সপ্তক, অন্বেষা, স্বাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ, মনামি, হৃদান
অন্যান্য সব ছবির জন্য: https//m.facebook.com/saptak7k/albums/10221348875965722/





































No comments:
Post a Comment