Friday, November 14, 2014

দুর্গাপুজোর কিছু অজানা কথা

আবার শারদাআকাশে মেঘেদের খেলা, পেঁজা তুলোর মত মেঘের এদিক ওদিক উড়ে ফেরা| নতুন জামা-কাপড়, কাশের দোলা, আর আশ্বিন মাসের বারতা মনে করিয়ে দেয় – মায়ের আগমনী|

   দুর্গাপুজো এখন আর শুধু মাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, পুনর্মিলন উত্সব| মনকে পুনরুজ্জীবিত করার আর একটা আবেগ| ব্যবসার প্রসার| রাজনীতিও| দশ দিনের উপাসনা হলেও সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী – এই চার দিনই উল্লাস, আড়ম্বরের সাথে পালন করা হয়| অনেক আনন্দ করলেও দুর্গাপুজোর অজানা অনেক কথাই আমরা অনেকেই জানিনা|

   রাবনের সাথে যুদ্ধে যাবার আগে রাম দেবীর বন্দনা করেছিলেন| সেই আচার সম্বন্ধীয় উত্সব প্রচলিত দুর্গাপুজোর থেকে একটু আলাদা| রামের মহিষাসুরমর্দিনীর আরাধনা, ১০৮টি নীল্ পদ্ম আর ১০৮টি দীপ জ্বালানোর সূচনা; বসন্তকালে হয় – ‘অকাল বোধন’ নামে যা পরিচিত|

   দুর্গাদেবীর আরাধনা বিখ্যাত হয় ১৫০০ শতকের শেষ দিকে| কথিত আছে দিনাজপুর আর মালদহের জমিদার বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো করেন| শোনা যায় ১৬০৬ সালে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ন কিংবা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার প্রথন শারদীয় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত করেন| ১৭৯০ সালে হুগলীর গুপ্তিপাড়ার ১২ জন বন্ধু মিলে স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে পুজো শুরু করে, যা বারো-বন্ধুর (আরবীতে  ঈয়ার) পুজো এবং পরে তাই ‘বারোয়ারী’ পুজো হিসেবে প্রচলিত হয়| মুর্শিদাবাদে ১৮২৪ থেকে ১৮৩১ সাল পর্যন্ত পুজো করার পর কাশিমবাজারের রাজা হরিনাথ ১৮৩২ সালে কলকাতায় প্রথম বারোয়ারী পুজো নিয়ে আসেন| এম. ডি. মুথুকুমারস্বামীর লেখা থেকে জানা যায় ‘সনাতন ধর্মত্সহিনী সভা’ কোলকাতার বাগবাজারে সর্বপ্রথম সার্বজনীন পুজোর রূপ দেয় সম্পূর্ণ ভাবে সাধারণ মানুষের সাহায্য নিয়ে| সেটা ছিল ১৯১০ সাল| তখন থেকেই দুর্গাপুজো এক অন্য মাত্রা পেতে থাকে|

   ১৭৬৫ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সহ বৃটিশরাও এই পুজোয় অংশ গ্রহণ করতেন| তারপর তত্কালীন সরকার থেকে আইন করে যা বন্ধ করে দেওয়া হয়|

   দূর্গা সহ কার্ত্তিক, গনেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী-কে নিয়ে মাটির তৈরী যে মূর্তি তৈরী করা হত তা ‘এক-চালা’ নামেই প্রচলিত| মাটি দিয়ে তৈরী প্রতিমাকে সুসজ্জিত করার জন্য দুই রকম সাজ ব্যবহার হত – সোলার সাজ আর ডাকের সাজ| প্রথা অনুযায়ী শোলার সাদা অংশ দিয়ে নকশা করে প্রতিমা সাজানো হয়| পরবর্তী সময়ে আর্থিক উন্নতির সাথের সাথে অপেক্ষাকৃত দামী রাংতার ব্যবহার শুরু হয়| এই রাংতা জার্মান থেকে ডাক ব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতে এসে পৌছাত, তাই নাম হয় ডাকের সাজ|

No comments:

Post a Comment