আবার শারদাআকাশে মেঘেদের খেলা, পেঁজা তুলোর মত
মেঘের এদিক ওদিক উড়ে ফেরা| নতুন জামা-কাপড়, কাশের দোলা, আর আশ্বিন মাসের বারতা মনে
করিয়ে দেয় – মায়ের আগমনী|
দুর্গাপুজো এখন আর শুধু মাত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠান
নয়, পুনর্মিলন উত্সব| মনকে পুনরুজ্জীবিত করার আর একটা আবেগ| ব্যবসার প্রসার| রাজনীতিও|
দশ দিনের উপাসনা হলেও সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, দশমী – এই চার দিনই উল্লাস, আড়ম্বরের
সাথে পালন করা হয়| অনেক আনন্দ করলেও দুর্গাপুজোর অজানা অনেক কথাই
আমরা অনেকেই জানিনা|
রাবনের সাথে যুদ্ধে যাবার আগে রাম দেবীর বন্দনা
করেছিলেন| সেই আচার সম্বন্ধীয় উত্সব প্রচলিত দুর্গাপুজোর থেকে একটু আলাদা| রামের
মহিষাসুরমর্দিনীর আরাধনা, ১০৮টি নীল্ পদ্ম আর ১০৮টি দীপ জ্বালানোর সূচনা;
বসন্তকালে হয় – ‘অকাল বোধন’ নামে যা পরিচিত|
দুর্গাদেবীর আরাধনা বিখ্যাত হয় ১৫০০ শতকের শেষ
দিকে| কথিত আছে দিনাজপুর আর মালদহের জমিদার বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো করেন| শোনা
যায় ১৬০৬ সালে তাহেরপুরের রাজা কংসনারায়ন কিংবা নদীয়ার ভবানন্দ মজুমদার প্রথন
শারদীয় দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত করেন| ১৭৯০ সালে হুগলীর গুপ্তিপাড়ার ১২ জন বন্ধু মিলে
স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে পুজো শুরু করে, যা বারো-বন্ধুর (আরবীতে ঈয়ার) পুজো এবং পরে তাই ‘বারোয়ারী’ পুজো হিসেবে
প্রচলিত হয়| মুর্শিদাবাদে ১৮২৪ থেকে ১৮৩১ সাল পর্যন্ত পুজো করার পর কাশিমবাজারের
রাজা হরিনাথ ১৮৩২ সালে কলকাতায় প্রথম বারোয়ারী পুজো নিয়ে আসেন| এম. ডি.
মুথুকুমারস্বামীর লেখা থেকে জানা যায় ‘সনাতন ধর্মত্সহিনী সভা’ কোলকাতার বাগবাজারে
সর্বপ্রথম সার্বজনীন পুজোর রূপ দেয় সম্পূর্ণ ভাবে সাধারণ মানুষের সাহায্য নিয়ে|
সেটা ছিল ১৯১০ সাল| তখন থেকেই দুর্গাপুজো এক অন্য মাত্রা পেতে থাকে|
১৭৬৫ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
সহ বৃটিশরাও এই পুজোয় অংশ গ্রহণ করতেন| তারপর তত্কালীন সরকার থেকে আইন করে যা বন্ধ
করে দেওয়া হয়|

No comments:
Post a Comment